ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারে ভয়াবহ বন্যা, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ

  • মোঃ শাহাদত হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০২:২৭ দুপুর
  • ৩০১৬৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আউশ ও আমন ধানের ক্ষেত, সবজির আবাদ, গ্রামীণ সড়ক এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) রাতে ইসলামপুর ইউনিয়নের মখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর প্রায় ১০০ মিটার বাঁধ ভেঙে যায়। এর পরপরই নদীর পানি দ্রুত আশপাশের গ্রামগুলোতে ঢুকে পড়ে। এতে ইসলামপুর, মাধবপুর, আলীনগর, পতনউষার ও আদমপুর ইউনিয়নের মোকাবিল, গোলের হাওর, ভান্ডারিগাঁও, গংগানগর, কোনাগাঁও, বেরিগাঁও, শ্রীপুর, পাতারিগাঁও, কালারায় বিল, আধকানী, ছনগাঁও, বন্দেরগাঁও, তেইতইগাঁও, ভানুবিল ও ঘোরামারাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বাঁধটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া একটি মাছের খামারের সুবিধার্থে বাঁধের অংশ নিচু করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর ঘরবাড়িতে তিন থেকে সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত পানি উঠেছে। অনেক পরিবার দুই দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। খাদ্যসংকটে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, প্রশাসনের ত্রাণ সহায়তা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে জেলার মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলিদ বলেন, ধলাই নদীর ভাঙনের পাশাপাশি ধলাই ও মনু নদীর অন্তত ১০টি স্থানে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি জানান, সীমান্তসংলগ্ন মখাবিল এলাকার কিছু অংশে প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আপত্তির কারণে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad