অনিশ্চয়তা শেষে একনেকে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে, ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৯,৭০০ কোটি টাকা

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৭ দুপুর
  • ১৭০৭৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দীর্ঘ প্রায় ছয় মাসের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-এর দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রকল্পটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পরিকল্পনা বিভাগ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদিত হলে প্রকল্পের নকশায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ যুক্ত হবে। এগুলো হলো— বাইপাইল ইন্টারচেঞ্জ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে প্রবেশ ও বহির্গমন সুবিধা এবং নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-১ (পাতাল মেট্রোরেল)-এর সঙ্গে সমন্বিত সংযোগ। এসব সংযোজনের ফলে রাজধানী ও আশপাশের সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ের কার্যকারিতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সংশোধনী প্রস্তাবে প্রকল্পের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। শুরুতে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় প্রথম সংশোধনীতে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। এবার দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও ৯ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা যোগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদন মিললে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা, যা মূল প্রাক্কলনের তুলনায় প্রায় ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ভ্যাট ও আয়কর কাঠামোর পরিবর্তন, কাস্টমস শুল্ক বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবার ব্যয় এবং নতুন অবকাঠামো সংযোজনের কারণে প্রকল্পের ব্যয় পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন হয়েছে।

সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ৯৫১ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং চীনের ঋণ থেকে ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর কাওলা থেকে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো, বাইপাইল ও সাভার ইপিজেড হয়ে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ওঠানামার সুবিধার্থে একাধিক সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকা, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এশিয়ান হাইওয়ে এবং দেশের বিভিন্ন জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে দ্রুত ও সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।

এদিকে প্রকল্পের মেয়াদও আরও চার বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঋণচুক্তি সম্পন্নে বিলম্ব হওয়ায় কাজ পিছিয়ে যায়। পরে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে নতুন করে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ, আর ভৌত অগ্রগতি ৫২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তবে বাস্তবায়নকারী সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া একই একনেক সভায় ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের পাশাপাশি আরও আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—ভোলা জেলার নদীভাঙন প্রতিরোধ, বৃহত্তর দিনাজপুরে সমন্বিত উন্নয়ন ও পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার, বেগমগঞ্জ ও সুনেত্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন, সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad