চুরির অভিযোগে মা-ছেলেকে মারধরের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ দুপুর
  • ৭৩৫৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
১২ বছরের শিশুকে গোয়ালঘরে শিকল দিয়ে আটকে রাখার দাবি; হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

উপজেলা প্রতিনিধি, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানিব্যাগ চুরির অভিযোগে ১২ বছরের এক এতিম শিশু ও তার বিধবা মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু ও তাঁর ভাই উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল হাই তালুকদারের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্যাতনের পর তাঁদের চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। তিন দিন বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকার পর সোমবার রাতে সুযোগ পেয়ে মা-ছেলে পালিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। মঙ্গলবার স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এর আগে গত শুক্রবার রাতে তাঁদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

চুরির অভিযোগে শিশুকে মারধরের দাবি

ভুক্তভোগী শিশু জিসান (১২) উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে। সে তারিকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার মা নাজমা বেগমের বয়স ৩৫ বছর।

নাজমা বেগমের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে আব্দুল হাই তাঁদের বাড়িতে গিয়ে জিসানকে ডেকে নিয়ে যান। পরে পাঁচ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ তুলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে গোয়ালঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন নাজমা। তাঁর দাবি, ছেলেকে না মারার জন্য অনুরোধ করলেও নির্যাতন বন্ধ করা হয়নি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে মা-ছেলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

নাজমা বলেন, এরপর তাঁদের চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। ভয়ে তিন দিন বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি তাঁরা। সোমবার রাতে সুযোগ পেয়ে মা-ছেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে মঙ্গলবার ভোরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

নাজমা বেগম আরও অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী বাচ্চু হাওলাদার প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর আগে জমি বন্ধক রাখার সূত্রে তিনি আব্দুল হাইকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তবে ওই লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজ ছিল না।

স্বামীর মৃত্যুর পর পাওনা টাকার লিখিত প্রমাণ চাইলে চুন্নু ও তাঁর ভাই ক্ষুব্ধ হন বলে দাবি নাজমার। তাঁর অভিযোগ, ওই টাকা ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই তাঁর ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

জিসানের অভিযোগ, মারধরের একপর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে পেটানো বন্ধ করা হয়নি। এরপর তিন দিন তাকে বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি।

‘শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন’

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, মা ও ছেলে দুজনের শরীরেই অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের স্থানগুলো কালচে হয়ে গেছে। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার না করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু ও তাঁর ভাই আব্দুল হাই তালুকদার দাবি করেন, জিসান তাঁদের বাড়ি থেকে মানিব্যাগ চুরি করেছে। তাঁদের ভাষ্য, ছেলেটি এর আগেও চুরি করেছে এবং ‘পেশাদার চোর’ হিসেবে গড়ে উঠছে। এ কারণে তাকে ‘চড়-থাপ্পড়’ দেওয়া হয়েছে।

এক লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হাই বলেন, ‘তারা টাকা পাবে, তাই তাদের জমি চাষ করতে দিই।’

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের জানানো হয়নি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad