কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় রহস্য, ধানক্ষেতে মিলল ধস্তাধস্তির চিহ্ন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৩ দুপুর
  • ২২৪৭৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
http://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যার ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত চার-পাঁচটি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছেই পড়ে ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ।

বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ফসলি জমি থেকে ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। তবে শরীরে দৃশ্যমান কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

ঘটনাস্থলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান জানান, সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গাড়িটি থেকে প্রায় ২০-৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। আশপাশের কয়েকটি ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্নও ছিল।

এসব চিহ্ন অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে এক নারীর মরদেহ দেখতে পান তিনি। মরদেহটির মুখ কাদায় গোঁজা ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শরীর ঢেকে দিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুহিন বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, সেখানে ধস্তাধস্তি হয়েছে। তার ধারণা, মেয়েটি প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। তবে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি সেখানে কেন ফেলে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সিএনজিচালককে ধরতে অভিযান

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারেন তিনি। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহের পাশ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়েছে।

সিএনজিচালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। যে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে জান্নাতুল বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, তার মোবাইল ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা হয়েছে। ওই বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ জানায়, জান্নাতুলের গলায় গামছা প্যাঁচানো থাকলেও শরীরে দৃশ্যমান বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

যশোরে গ্রামের বাড়িতে দাফন

ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জান্নাতুলের স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স ধানমন্ডি রোডের ‘ডুভিন প্লেইস’ ভবনের ১৬০৬ নম্বর ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়।

ভবনের নিরাপত্তাপ্রহরী জানান, মাগরিবের নামাজের পর পরিবারের সদস্যরা যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে জান্নাতুলকে দাফন করার কথা রয়েছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad