‘বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যদ্বাণী ও পরিসংখ্যানভিত্তিক নানা বিশ্লেষণেরও প্রতিযোগিতা। তবে চলমান বিশ্বকাপে জার্মান অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক জোয়াকিম ক্লেমেন্তের বহুল আলোচিত গাণিতিক পূর্বাভাস বড় ধাক্কা খেয়েছে। তার সেই ব্যর্থতার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র।গত তিনটি বিশ্বকাপে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন দল নির্ধারণে আলোচনায় ছিলেন ক্লেমেন্ত। জিডিপি, জনসংখ্যা, আবহাওয়া ও দর্শক সমর্থনের মতো চারটি সূচকের সমন্বয়ে তৈরি একটি গাণিতিক মডেলের ভিত্তিতে তিনি বিশ্বকাপের ফলাফল পূর্বাভাস দিয়ে থাকেন। এবারের আসরেও তিনি দাবি করেছিলেন, জাপানের কাছে হেরে ব্রাজিল শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেবে।কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। জাপান ম্যাচের শুরুতে এগিয়ে গেলেও ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ায়। ক্যাসেমিরোর সমতাসূচক গোলের পর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনও ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি বেঞ্চে থাকা নেইমারকে মাঠে নামানোর প্রয়োজন মনে করেননি। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির দুর্দান্ত গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।শুধু ব্রাজিলই নয়, একই দিনে ক্লেমেন্তের আরেক ফেভারিট নেদারল্যান্ডসও মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। পরপর দুটি বড় পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর নেইমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ ব্যঙ্গ করে লেখেন, "জোয়াকিম ক্লেমেন্তে, আগামী বিশ্বকাপে আবার চেষ্টা করবেন।" পরে নেদারল্যান্ডসের বিদায়ের পর আরেকটি পোস্টে তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন, "আবারও ভুল।"ক্লেমেন্তের গাণিতিক মডেলের চারটি প্রধান ভিত্তি হলো—একটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), জনসংখ্যা, গড় তাপমাত্রা এবং ঘরের মাঠে সমর্থকদের উপস্থিতি। তার মতে, শক্তিশালী অর্থনীতি ফুটবল অবকাঠামো ও প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করে, বড় জনসংখ্যা প্রতিভা বাছাইয়ের সুযোগ বাড়ায়, প্রায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা ফুটবলের জন্য আদর্শ এবং সমর্থকদের উপস্থিতি দলকে অতিরিক্ত মানসিক শক্তি জোগায়।তবে এবারের বিশ্বকাপে সেই তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ বাস্তবতার কাছে হার মানল। ব্রাজিলের নাটকীয় জয় এবং নেদারল্যান্ডসের বিদায় আবারও মনে করিয়ে দিল—ফুটবল শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়; এটি অনিশ্চয়তা, আবেগ ও মুহূর্তের সৃজনশীলতারও নাম।