ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডন। তার মতে, বর্তমান সময়ে লিওনেল মেসির পর সবচেয়ে ধারাবাহিক ও প্রভাবশালী ফুটবলার হ্যারি কেইন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডের নাটকীয় জয়ের পর এমন মন্তব্য করেন তিনি।বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে শুরুতে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ম্যাচ যত এগোচ্ছিল, ততই বিদায়ের শঙ্কা বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন অ্যান্থনি গর্ডন ও বুকায়ো সাকা। তাদের আগমনে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বাম প্রান্তে গর্ডনের তৈরি করা দুটি আক্রমণ থেকেই গোল করেন হ্যারি কেইন। তার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।ম্যাচ শেষে গর্ডন বলেন, “প্রতিদিন হ্যারি কেইনের সঙ্গে অনুশীলন করা অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা। খুব কাছ থেকে বুঝতে পারি তিনি কতটা উচ্চমানের ফুটবলার। আমার বিশ্বাস, এই মৌসুমে তার পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে যেতে পেরেছেন কেবল সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। এটি প্রমাণ করে, তিনি এখন কতটা উঁচু পর্যায়ে খেলছেন।”সম্প্রতি বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার বলেন, কেইনের সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা।গর্ডনের ভাষায়, “তার মতো একজনের পাশে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই শেখার চেষ্টা করবেন। তিনি কীভাবে প্রস্তুতি নেন, কীভাবে প্রতিটি অনুশীলনে নিজেকে নিংড়ে দেন—এসবই অনুকরণীয়। তিনি ভাগ্যগুণে এই অবস্থানে আসেননি। প্রতিটি ফিনিশিং ড্রিল, প্রতিটি অনুশীলন এবং প্রতিটি ম্যাচে একই রকম মনোযোগ ধরে রাখেন। তিনি আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা।”ইংল্যান্ড ম্যাচে পিছিয়ে থাকলেও নিজের দলের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন গর্ডন।তিনি বলেন, “একবারও মনে হয়নি আমরা হারব। অনুশীলনে আমাদের যে প্রস্তুতি, তাতে আমি নিশ্চিত ছিলাম আমরা ম্যাচে ফিরব। কেইন শট নেওয়ার মুহূর্তেই বুঝেছিলাম বল জালে জড়াবে। তাই গোল হওয়ার আগেই উদযাপন শুরু করেছিলাম।”গর্ডন আরও যোগ করেন, “ভালো গোল অনেকেই করতে পারে, কিন্তু হ্যারি কেইনকে আলাদা করে তার অসাধারণ ধারাবাহিকতা। অনুশীলন থেকে শুরু করে ম্যাচ—প্রতিটি দিনই তিনি একই মানের পারফরম্যান্স ধরে রাখেন। আর এ কারণেই তিনি বিশ্বের সেরাদের একজন।”ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ জয় ইংল্যান্ডকে শেষ ষোলোয় পৌঁছে দিয়েছে। আর সেই জয়ের নায়ক হ্যারি কেইনকে নিয়ে গর্ডনের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ফুটবল বিশ্বে।