টানা বর্ষণে বিচ্ছিন্ন সাজেকের সড়ক যোগাযোগ, আটকা সাড়ে ৪০০ পর্যটক
প্রথম দর্পণ, ডেস্ক||
প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১২:২৯ সময়
টানা ভারী বর্ষণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় রাঙ্গামাটির সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়কের একাধিক অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত যাত্রী। পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে আটকা পড়েছেন প্রায় সাড়ে ৪০০ পর্যটক।বুধবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে দীঘিনালা–সাজেক সড়কের কবাখালী এলাকায় পানি উঠে সড়ক তলিয়ে যায়। এতে সাজেক ও বাঘাইছড়ির সঙ্গে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।একই সময়ে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার এলাকার সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় লংগদুর সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মেরুং ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং অনেক বাড়িঘর ও আঙিনায় পানি ঢুকে পড়েছে।এদিকে টানা বর্ষণে মাইনী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীতীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে আশ্রয়ের জন্য ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।অন্যদিকে জেলার চেঙ্গী নদী ও আশপাশের কয়েকটি ছড়া-খালের পানি কিছুটা কমলেও বিভিন্ন এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে।সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তায় এগিয়ে এসেছে স্থানীয় কটেজ ও রিসোর্ট মালিকরা। কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক-এর দপ্তর সম্পাদক এস এম জিয়াউল হক যুবরাজ জানান, পর্যটকদের জন্য আবাসনে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং রেস্তোরাঁগুলোতেও স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানান, সম্ভাব্য পাহাড়ধস ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গত মানুষের জন্য শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে এবং যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।