অবশেষে দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকলেও অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল।ম্যাচজুড়ে আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়েও স্পেনকে বারবার হতাশ করেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো ও ফেরান তোরেসের একাধিক প্রচেষ্টা দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আর দলকে রক্ষা করতে পারেননি এই বিশ্বমানের গোলরক্ষক।১০৬ মিনিটে পেদ্রো পোরোর উড়িয়ে দেওয়া বল দূরের পোস্টে অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে এনে হেডে ফেরান নিকো উইলিয়ামস। বক্সের ভেতরে ফাঁকা জায়গায় নেমে আসা সেই বল ডান পায়ের জোরালো শটে জালে জড়িয়ে দেন ফেরান তোরেস। মার্তিনেজ ঝাঁপ দিলেও বল ঠেকাতে পারেননি। সেই একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপের ট্রফি নিশ্চিত করে স্পেন।২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল 'লা রোহা'। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার।পুরো ম্যাচেই ছিল স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। মাঝমাঠে রদ্রির দারুণ নিয়ন্ত্রণে বলের দখল, আক্রমণের গতি এবং ছন্দ—সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা। ডান প্রান্তে লামিন ইয়ামাল আর্জেন্টিনার রক্ষণকে বারবার চাপে ফেলেন। দানি ওলমো, ওয়ারজাবাল, কুকুরেয়া ও ফেরান তোরেস একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা মিলছিল না।প্রথমার্ধেই প্রতিপক্ষের অর্ধে ১৭০টি পাস খেলে স্পেন। পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা কার্যকর কোনো শট নিতে পারেনি, এমনকি একটি কর্নার আদায় করতেও ব্যর্থ হয়। আর্জেন্টিনার আক্রমণের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসিকেও কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখে স্পেনের রক্ষণভাগ। রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠে এমন চাপ তৈরি করা হয় যে মেসি বল পেলেও স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেননি।যদিও আর্জেন্টিনা অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণাত্মক কৌশলে ম্যাচে টিকে ছিল। বক্সের সামনে দুই স্তরের প্রতিরক্ষা গড়ে স্পেনকে উইং দিয়ে আক্রমণে বাধ্য করে তারা। তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অসাধারণ পজিশনিং এবং ধারাবাহিক সেভই মূলত আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ সময় লড়াইয়ে রাখে।নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা। কাউন্টার অ্যাটাকে এগিয়ে যাওয়া পাউ কুবারসিকে পেছন থেকে বিপজ্জনক ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফের্নান্দেজ। ফলে অতিরিক্ত সময়ে ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে।সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত সময়ে চাপ আরও বাড়ায় স্পেন। অবশেষে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল, যা বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর ফিনিশিং নিয়ে বহু সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ফেরান তোরেস। তবে বিশ্বকাপ ফাইনালের এই গোল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।ম্যাচ শেষে স্পেনের শিবিরে শুরু হয় শিরোপা উৎসব। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে তারা। অন্যদিকে লিওনেল মেসির জন্য এটি হয়ে রইল এক বেদনাময় সমাপ্তি। একই সঙ্গে ফুটবল বিশ্বে নতুন প্রজন্মের উত্থানের প্রতীক হয়ে উঠলেন লামিন ইয়ামাল।অসাধারণ নৈপুণ্য, কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং ধারাবাহিক আধিপত্যের সুবাদে এবারের বিশ্বকাপের যোগ্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করল স্পেন।