পাঁচ কাঠা বা বড় প্লটে সর্বোচ্চ ০.৫ ফার প্রণোদনা, এক বছরে ভিটি নির্মাণ না করলে ২০ গুণ জরিমানাপূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প দ্রুত বসবাসের উপযোগী করে তুলতে প্লট মালিকদের জন্য বিশেষ নির্মাণসুবিধা ঘোষণা করেছে সরকার। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন এ দুই প্রকল্পে পাঁচ কাঠা বা তার বেশি আয়তনের আবাসিক প্লটের মালিকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদন করলে সর্বোচ্চ ০.৫ ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) প্রণোদনা পাবেন।গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-২ থেকে গত বুধবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে ভবনের নকশা বা পরিকল্পনা অনুমোদনের আবেদন করলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে প্রণোদনা গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু না করলে গুনতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা।অতিরিক্ত নির্মাণের সুযোগপ্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পূর্বাচল ও ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের পাঁচ কাঠা বা তদূর্ধ্ব আয়তনের আবাসিক প্লটের ক্ষেত্রে ভিত্তি ফারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ০.৫ ফার যুক্ত হবে। ঢাকা মহানগর এলাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ডিএপি ২০২২-২০৩৫)-এর তফসিলের সংশোধনের মাধ্যমে এ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। রাজউক আইন, ২০২৬-এর ২৩ ও ২৪ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী আমিনুর রহমান দৈনিক আমার দেশকে জানান, প্রজ্ঞাপন জারির পর ছয় মাসের মধ্যে ভবনের নকশা জমা দিলে পাঁচ কাঠা বা তার বেশি আয়তনের প্লটের মালিকরা এ সুবিধা পাবেন।তিনি ব্যাখ্যা করেন, পাঁচ কাঠা জমিতে সাধারণ হিসাবে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বর্গফুট নির্মাণযোগ্য ক্ষেত্রফল পাওয়া গেলে অতিরিক্ত ০.৫ ফারের মাধ্যমে আরও প্রায় ১ হাজার ৮০০ বর্গফুট নির্মাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকৃত নির্মাণযোগ্য আয়তন অনুমোদিত নকশা ও প্রযোজ্য বিধিমালার ওপর নির্ভর করবে।এক বছরের মধ্যে ভিটি নির্মাণ বাধ্যতামূলকপ্রণোদনা সুবিধার পাশাপাশি নির্মাণকাজে গতি আনতে কঠোর শর্তও আরোপ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিশেষ ফার সুবিধা নিয়ে চূড়ান্ত নির্মাণ অনুমোদনপত্র পাওয়া প্লট মালিকদের অনুমোদনের এক বছরের মধ্যে অন্তত প্লিন্থ লেভেল বা ভিটি পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে নকশা অনুমোদনের জন্য পরিশোধিত ফির ২০ গুণ অর্থ জরিমানা হিসেবে রাজউককে দিতে হবে। ফলে শুধু অতিরিক্ত নির্মাণসুবিধা গ্রহণ নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তব নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়াও প্লট মালিকদের জন্য বাধ্যতামূলক হচ্ছে।সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য পূর্বাচল ও ঝিলমিল প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্লটগুলোতে নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করা এবং এলাকাগুলোকে দ্রুত জনবসতিপূর্ণ ও বাসযোগ্য করে তোলা।দীর্ঘদিনেও বাসযোগ্য হয়নি দুই প্রকল্পঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে রাজউক ১৯৯৫ সালে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প হাতে নেয়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৬ হাজার ২২৭ একর জমিতে বিস্তৃত এ প্রকল্প দীর্ঘ সময় পার হলেও পুরোপুরি বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।অন্যদিকে, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পেও দীর্ঘসূত্রতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। এসব সমস্যা নিয়ে দৈনিক আমার দেশ গত ৫ অক্টোবর ‘৩১ বছরেও বাসযোগ্য হয়নি পূর্বাচল প্রকল্প’ এবং ৯ অক্টোবর ‘২৯ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প, ঝুলে আছে ১৩ হাজার ফ্ল্যাট’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন প্রণোদনা ঘোষণায় প্লট গ্রহীতাদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।নতুন সুবিধার মাধ্যমে নির্মাণকাজ কতটা ত্বরান্বিত হয়, তা নির্ভর করবে প্লট মালিকদের অংশগ্রহণ, অনুমোদন প্রক্রিয়ার গতি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর।তথ্যসূত্র: পূর্বাচল ও ঝিলমিল প্রকল্প: আবাসন ত্বরান্বিত করতে প্লট মালিকদের বাড়তি প্রণোদনা’, বিশেষ প্রতিনিধি; প্রকাশিত ১৬ অক্টোবর ২০২৬। প্রণোদনার শর্ত ও নির্মাণসুবিধা বিষয়ে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী আমিনুর রহমানের বক্তব্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের বিবরণ মূল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।