নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে চাপে ক্রেতারারাজধানীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে আদা ও রসুনের দাম পৌঁছেছে ২০০ টাকার ঘরে। একই সময়ে ছোলা, মসুর ডাল ও দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। অন্যদিকে, গত তিন মাসে পোলাও চালের দাম কেজিতে ১০০ টাকার বেশি বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়। আটা ও ময়দার দামও ঊর্ধ্বমুখী। নিত্যপণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।পূজার ছুটিতে রাজধানীর বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি নেই। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজার তদারকির ঘাটতি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।বাড়তি দাম আদা-রসুন, ডাল ও পেঁয়াজেবাজারের তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আদা ও রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ২০০ টাকার ঘরে উঠেছে। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। বেড়েছে মসুর ডালের দামও। দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়।পোলাও চালে বড় ধাক্কানিত্যপণ্যের বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি তৈরি করেছে পোলাও চালের দাম। গত তিন মাসে কেজিতে ১০০ টাকার বেশি বেড়ে বর্তমানে প্যাকেটজাত বা নির্দিষ্ট মানের পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খোলা পোলাও চালের দাম মানভেদে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১৯০ টাকা।এদিকে, গত এক মাসে আটা ও ময়দার দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে খোলা আটা কেজিপ্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।আয় না বাড়লেও বাড়ছে সংসার খরচবাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় নির্ধারিত আয়ের মধ্যে সংসারের ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।বেসরকারি চাকরিজীবী আসলাম হোসেন বলেন, ছুটির দিনে বাজারে মানুষের উপস্থিতি কম থাকলেও পণ্যের দাম কমার লক্ষণ নেই। বাজারে যে পণ্যই কিনতে যাচ্ছেন, সেটির দামই বেশি মনে হচ্ছে।সীমিত আয়ের কর্মজীবী রাকিব পাটোয়ারী বলেন, আটা, ডাল ও রসুনের দাম বাড়তে থাকায় সংসারের খরচ মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অথচ তাঁদের আয় বাড়েনি।বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাবের অভিযোগ তুলে ক্রেতা রফিক শেখ বলেন, সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ থাকলেও কার্যকর বাজার তদারকি চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ ভোক্তারা অসহায় বোধ করছেন।ক্রেতাদের দাবি, নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে নিয়মিত তদারকি, মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।