প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিয়ে শফিকুর রহমান বললেন, প্রমাণ দিতে না পারলে অভিযোগ প্রত্যাহার করুনআওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কথিত আঁতাত এবং দলটিকে ক্ষমা করে দেওয়ার অভিযোগকে রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, কোনো ফোরামে তিনি আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার কথা বলেননি। কেউ তা প্রমাণ করতে পারলে তিনি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন।শনিবার (২৪ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।আঁতাতের অভিযোগের প্রমাণ চানপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে ঢালাও মন্তব্য না করে অভিযোগের বিষয়টি স্পষ্ট করা উচিত। কোথায়, কখন, কার সঙ্গে এবং কীভাবে আঁতাত হয়েছে, তা প্রমাণ করার আহ্বান জানান তিনি।জামায়াত আমির বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এভাবে ঢালাও বক্তব্য দেওয়া অন্যায়। সাহস থাকলে প্রমাণ উপস্থাপন করে তাঁর দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।‘আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার কথা বলিনি’আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১২ আগস্টের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁরা কারও ওপর প্রতিশোধ নেবেন না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবার আইনের আশ্রয় নিলে তাঁদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।তাঁর দাবি, একটি নির্দিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল বক্তব্য বিকৃত করে জামায়াত আমির আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দিয়েছেন—এমন বক্তব্যসংবলিত ফটোকার্ড প্রচার করে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই ২২ মিনিটের বক্তব্যে তিনি একবারের জন্যও ‘আওয়ামী লীগ’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। কোনো গণমাধ্যম তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার কথা প্রমাণ করতে পারলে তিনি নিজেই ক্ষমা চাইবেন বলেও জানান।সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র-টাকা প্রবেশের দায় সরকারেরসীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র, টাকা ও মাদক প্রবেশের অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সরকার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব অবৈধ সামগ্রী দেশে প্রবেশ করলে তার দায় সরকারের। এ ধরনের ব্যর্থতার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগদেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ডিও লেটারের মাধ্যমে পদ-পদবি দেওয়া এবং পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও করেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দায় চাপানো হচ্ছে জামায়াতের ওপর।এ প্রসঙ্গে তিনি ‘ঠাকুরঘরে কে রে, আমি কলা খাই না’ প্রবাদটি উল্লেখ করেন।