১৫ মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ, প্রত্যেককে দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ ফি; তুলে নেওয়া হয়েছে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞাআনছার হোসেন, কক্সবাজার: আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটন মৌসুমে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত দ্বীপটি ভ্রমণ করা যাবে। এ সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে দ্বীপে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।রোববার (২৫ অক্টোবর) পর্যটকদের সেন্টমার্টিন ভ্রমণ নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় পর্যটক চলাচল, জাহাজ পরিচালনা ও দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণে একাধিক নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে।বাড়ল দৈনিক পর্যটকের সংখ্যাসভা সূত্রে জানা গেছে, ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দৈনিক পর্যটকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সীমা বাড়ানো হয়েছে।পর্যটকবাহী জাহাজ আগের মতোই কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে চলাচল করবে। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান সেন্টমার্টিনে চলাচল করতে পারবে না।দিতে হবে ১০০ টাকা পরিবেশ ফিসেন্টমার্টিন ভ্রমণে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা করে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তর ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি-২৬ অনুযায়ী এ ফি আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এসব নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।আগের বিধিনিষেধ নিয়ে অসন্তোষসেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পর্যটকদের চলাচল ও অবস্থানের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দ্বীপটির প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে ১২টি নির্দেশনা জারি করা হয়। এর মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা সীমিত করা এবং রাত্রিযাপনে নিষেধাজ্ঞাও ছিল।এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে দ্বীপের বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আন্দোলন করেন। তাঁদের অভিযোগ, পর্যটক সীমিত করা ও রাত্রিযাপনে নিষেধাজ্ঞার কারণে গত এক বছরে পর্যটন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জীবিকা নির্বাহের সংকটও বেড়েছে বলে দাবি তাঁদের।স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, পর্যটন কার্যক্রম সীমিত থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাঁরা দ্বীপের পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।পর্যটন ও পরিবেশের ভারসাম্যে গুরুত্বসরকারের নতুন সিদ্ধান্তে পর্যটকের দৈনিক সীমা বাড়ানো এবং রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মাধ্যমে পর্যটন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি এবং অনুমোদিত নৌযান চলাচলের শর্ত বহাল রাখা হয়েছে।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রেখে দ্বীপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করা সম্ভব হবে।