বরিশাল মহানগরীতে পুলিশি সেবা সম্প্রসারণ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে আরও চারটি নতুন থানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে মহানগরীতে থানার সংখ্যা চার থেকে বেড়ে আটটিতে দাঁড়াবে।সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিএমপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান পুলিশ কমিশনার মো. আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ। তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ ও যানবাহনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভবিষ্যতে মহানগরীতে আরও চারটি থানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।বর্তমানে কর্মরত ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্যবিএমপি কমিশনার জানান, ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে চারটি থানার মাধ্যমে মহানগরবাসীকে পুলিশি সেবা দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠার দুই দশক ধরে তাঁরা নগরীর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন।নতুন থানা স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর কাছে পুলিশি সেবা আরও সহজে পৌঁছানো এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে বিএমপি কর্তৃপক্ষ।নগরবাসীর সহযোগিতা চাইলেন বিভাগীয় কমিশনারপ্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিল আহমেদ বলেন, পরিবর্তিত নগর বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতাও প্রয়োজন।এর আগে বিএমপি কার্যালয় চত্বরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নগরীর বান্দ রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি জুলফিকার আলী হায়দার, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৮-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ জাকিউল করিম, উপপুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান ও সুশান্ত সরকার, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সহসভাপতি হুমায়ুন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।