মাদক কারবার ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. সায়েদুর রহমান। একই সঙ্গে ডাকাতির মামলা দ্রুত রেকর্ড ও তদন্ত করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ধর্ষণ মামলার তদন্ত নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান।মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’সভায় অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদেরও চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।তিনি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে এবং পুলিশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে কাজ করার নির্দেশ দেন।ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলার তদন্তে গুরুত্বঅপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডাকাতির মামলা দ্রুত রেকর্ড করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। ধর্ষণ মামলার তদন্ত নিবিড়ভাবে তদারকির ওপরও গুরুত্ব দেন অতিরিক্ত আইজিপি, যাতে এসব মামলায় বিচার ও দণ্ডের হার বাড়ানো যায়।এ ছাড়া অন্যান্য মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং জোরদারের আহ্বানসমাজে ইতিবাচক ভাবমূর্তির অধিকারী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি পুলিশিং এবং বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত আইজিপি। এর মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।সম্প্রতি সমাপ্ত দুর্গাপূজা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উদযাপিত হওয়ায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আইজিপির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান তিনি।সেপ্টেম্বরের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনাসভায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশের ওপর হামলা ও অপহরণের মামলা নিয়ে আলোচনা হয়।এ ছাড়া মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তি, বিচারের অগ্রগতি এবং দণ্ডের হার নিয়েও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।সভায় সব মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। পুলিশ সদর দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা