ঘুমের ঘাটতিতে বাড়তে পারে ক্লান্তি, মনোযোগের সমস্যা ও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা রাত জাগার অভ্যাসে অনেকেরই ঘুমের সময় কমে যাচ্ছে। তবে সুস্থ থাকতে সবার জন্য একই পরিমাণ ঘুম যথেষ্ট নয়। বয়সের সঙ্গে ঘুমের প্রয়োজন বদলায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।ঘুম কেবল শরীরের ক্লান্তি দূর করে না; স্মৃতি সংরক্ষণ, মস্তিষ্কের কার্যক্রম এবং শরীরের কোষ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পুনরুদ্ধারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।বয়স অনুযায়ী কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজনঘুমের প্রয়োজন বয়সভেদে আলাদা। সাধারণভাবে বিভিন্ন বয়সের মানুষের দৈনিক ঘুমের সময়সীমা হলো—০–৩ মাস বয়সী শিশু: ১৪–১৭ ঘণ্টা৪–১২ মাস বয়সী শিশু: ১২–১৬ ঘণ্টা১–২ বছর বয়সী শিশু: ১১–১৪ ঘণ্টা৩–৫ বছর বয়সী শিশু: ১০–১৩ ঘণ্টা৬–১২ বছর বয়সী শিশু: ৯–১২ ঘণ্টা১৩–১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী: ৮–১০ ঘণ্টা১৮–৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ক: অন্তত ৭ ঘণ্টা৬১–৬৪ বছর বয়সী ব্যক্তি: ৭–৯ ঘণ্টা৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি: ৭–৮ ঘণ্টাঘুমের ঘাটতিতে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারেনিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, কাজে মনোযোগের ঘাটতি, মেজাজের পরিবর্তন এবং ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকজনিত সমস্যার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে গাড়ি চালানো বা মনোযোগনির্ভর কাজের ক্ষেত্রে ক্লান্তি ঝুঁকি বাড়াতে পারে।বুঝবেন যেভাবে ঘুম পর্যাপ্ত হচ্ছে নারাতে ঘুমানোর পরও সকালে ক্লান্ত লাগা ঘুমের ঘাটতির একটি লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি—দিনের বেলায় বারবার ঘুম পাওয়া।কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হওয়া।সামান্য বিষয়েও বিরক্তি বা মেজাজের পরিবর্তন।কথা বা কাজ সহজে ভুলে যাওয়া।সতেজ থাকতে বারবার চা বা কফি পান করার প্রয়োজন হওয়া।ছুটির দিনে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সময় ঘুমানো।ঘুমের অভ্যাসে নজর দিনএসব লক্ষণ নিয়মিত দেখা দিলে ঘুমানোর সময়, ঘুমের পরিবেশ এবং দৈনন্দিন অভ্যাস পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।