মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহেরান্দী গ্রামে মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত সাতটি ঘরে অগ্নিসংযোগ এবং ৪০টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলাপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠন করা হয়। এতে মোশাররফ ফকিরকে সভাপতি করা হলে একই এলাকার বাচ্চু মোড়ল এর বিরোধিতা করেন। তিনি নিজেই সভাপতি পদ দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। গত কয়েক দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।স্থানীয়দের অভিযোগ, এর জেরে বুধবার ভোরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শতাধিক লোক বাচ্চু মোড়লের নেতৃত্বে মাতুব্বরবাড়ি, সর্দারবাড়ি ও ফকিরবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মিনজাল জমাদ্দার, রবিউল মাতুব্বর, ফারুক মাতুব্বর, বোরহান মাতুব্বর ও এমদাদ মাতুব্বরসহ সাতজনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনটি বাড়ির এলাকার প্রায় ৪০টি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।পুলিশের রাবার বুলেট, এলাকায় অতিরিক্ত সদস্যখবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।ক্ষতিগ্রস্ত এমদাদ মাতুব্বর অভিযোগ করেন, বাচ্চু মোড়লের নেতৃত্বে তাঁদের এলাকায় ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ৪০ থেকে ৫০টি বাড়ি হামলার শিকার হয়েছে।স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জাহিদ হাওলাদার বলেন, মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ থেকে এত বড় ঘটনা ঘটবে, তা তাঁরা ভাবতে পারেননি।অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থামাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কামাল আজাদ বলেন, মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ থেকেই এ ঘটনার সূত্রপাত। গত কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ৪০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনার পর বাচ্চু মোড়ল ও তাঁর সমর্থকেরা এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।