অর্থদণ্ড ১০ লাখ টাকা, অবৈধ সম্পদের ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বাজেয়াপ্তের নির্দেশজ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সহকারী কর কমিশনার শ্যামল কৃষ্ণ দাসকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে। এ ছাড়া তাঁর অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালাম এ রায় ঘোষণা করেন।দুদকের প্রসিকিউটর খন্দকার শামীম হোসেন সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু জানান, রায় ঘোষণার আগে আসামি আদালতে উপস্থিত হন। রায়ের পর তাঁর জামিন বাতিল করে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগদুদকের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শ্যামল কৃষ্ণ দাস এনবিআরের কর অঞ্চল ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকে নিজের ও নির্ভরশীলদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসের বিবরণী জমা দেন তিনি। সেখানে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পদের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর সঙ্গে ৩১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ টাকার পারিবারিক ব্যয় যোগ করে মোট সম্পদের হিসাব দাঁড়ায় ৩ কোটি ৪ লাখ ৯৭ হাজার ১৭ টাকায়।দুদকের হিসাব অনুযায়ী, এর বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ১ কোটি ১৯ লাখ ১ হাজার ২২৫ টাকা। বাকি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭৯২ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।২০২৪ সালে মামলা, সাক্ষ্য দেন চারজনজ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৩ মে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. মাহাবুব মোর্শেদ।তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান গত বছরের ১৭ এপ্রিল শ্যামল কৃষ্ণ দাসকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।