চোখের পাওয়ারের ত্রুটি, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা ও গ্লুকোমায় বাড়তে পারে ব্যথাঘনঘন মাথাব্যথার পেছনে মানসিক চাপ, আবহাওয়ার পরিবর্তন কিংবা মাইগ্রেনের মতো কারণ থাকতে পারে। তবে সব মাথাব্যথার উৎস এসব নয়। চোখের পাওয়ারের সমস্যা, দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় তাকিয়ে থাকা এবং চোখের কিছু রোগ থেকেও মাথাব্যথা হতে পারে। তাই নিয়মিত মাথাব্যথার সঙ্গে চোখে ঝাপসা দেখা বা জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।চোখ ও স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে কপাল, ভ্রুর আশপাশ কিংবা চোখের পেছনে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অস্বস্তি ঘাড়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে।চোখের যেসব সমস্যায় মাথাব্যথা হতে পারে১. চোখের পাওয়ারের ত্রুটিঅ্যাস্টিগমাটিজম, দূরের বস্তু দেখতে অসুবিধা কিংবা বয়স বাড়ার সঙ্গে কাছের লেখা পড়তে সমস্যা—এসব কারণে চোখকে বেশি পরিশ্রম করতে হতে পারে। এতে বিশেষ করে কপাল ও ভ্রুর ওপরের অংশে ব্যথা দেখা দিতে পারে।২. দুই চোখের সমন্বয়ে সমস্যাপড়ার সময় বা স্ক্রিনের দিকে তাকানোর সময় দুই চোখের সমন্বয় ঠিকভাবে কাজ না করলে চোখে ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা এবং চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। এ ধরনের সমস্যার একটি হলো কনভারজেন্স ইনসাফিসিয়েন্সি।৩. দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের প্রভাবএকটানা মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারে চোখের পলক ফেলার হার কমে যেতে পারে। এতে চোখের আর্দ্রতা কমে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, চোখে ক্লান্তি ও মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।৪. গ্লুকোমাগ্লুকোমার কিছু ধরন, বিশেষ করে হঠাৎ চোখের চাপ বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে, তীব্র চোখ ও মাথাব্যথা হতে পারে। এর সঙ্গে চোখ লাল হওয়া, ঝাপসা দেখা, আলোর চারপাশে রঙিন বলয় দেখা এবং বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে চক্ষু চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।কখন বুঝবেন চোখের কারণে মাথাব্যথা হতে পারেকিছু লক্ষণ চোখের সমস্যার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে। যেমন—দীর্ঘক্ষণ বই পড়া বা কম্পিউটারে কাজ করার পর মাথাব্যথা শুরু হওয়া।বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে চোখ ও কপালের আশপাশে ব্যথা বাড়া।চোখের পেছনে বা দুই ভ্রুর মাঝখানে ব্যথা অনুভূত হওয়া।মাথাব্যথার সঙ্গে চোখ জ্বালা করা, শুষ্কতা কিংবা ঝাপসা দেখার সমস্যা থাকা।দীর্ঘক্ষণ কাছের কাজে মনোযোগ দেওয়ার পর চোখে ক্লান্তি ও অস্বস্তি দেখা দেওয়া।তবে এসব লক্ষণ থাকলেই যে মাথাব্যথার কারণ চোখ, তা নিশ্চিত নয়। মাইগ্রেনসহ অন্যান্য সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে।কী করবেনঘনঘন মাথাব্যথা হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চোখের পাওয়ার, দুই চোখের সমন্বয়, কর্নিয়ার অবস্থা এবং চোখের চাপ পরীক্ষা করানো যেতে পারে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের সময় নিয়মিত বিরতি নেওয়া, পর্যাপ্ত পলক ফেলা এবং চোখে অস্বস্তি হলে কাজ থেকে বিরতি নেওয়াও সহায়ক হতে পারে।তবে হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, চোখে তীব্র ব্যথা ও লালভাব, শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা কথা বলতে সমস্যা হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।