১৩টি জটিল হামলার পরিস্থিতির মধ্যে তিনটিতে সফল জিএলএম-৫.৩, বলছে গবেষণাচীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেড.এআইয়ের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল জিএলএম-৫.৩ জটিল সাইবার হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চালানো পরীক্ষায় ১৩টি বহু-ধাপের সাইবার হামলার পরিস্থিতির মধ্যে অন্তত তিনটিতে সফল হয়েছে মডেলটি। একই সঙ্গে স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাজ করার প্রবণতাও ধরা পড়েছে এর আচরণে। এতে এআইয়ের নিরাপত্তা ও অপব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এআই নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইরেগুলারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, উন্মুক্তভাবে ব্যবহারযোগ্য কোনো এআই মডেলের ক্ষেত্রে তাদের নথিভুক্ত পরীক্ষায় এটিই সর্বোচ্চ সাফল্য। তবে পরীক্ষার ধরন ও পরিস্থিতি এক না হওয়ায় অন্যান্য মডেলের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।সুরক্ষিত নেটওয়ার্কে প্রবেশের সক্ষমতাইরেগুলারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সিমুলেটেড সাইবার হামলার সময় জিএলএম-৫.৩ সুরক্ষিত সেবায় প্রবেশ, কম্পিউটার নেটওয়ার্কে চলাচলের জন্য বিকল্প সংযোগ তৈরি এবং একাধিক কম্পিউটারে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরেছে। পরীক্ষায় আক্রমণাত্মক কোনো কাজই মডেলটি প্রত্যাখ্যান করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলগুলোর তুলনায় জিএলএম-৫.৩ পিছিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। ইরেগুলারের পৃথক মূল্যায়নে ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৬ আস্ট্রা ১০টি পরিস্থিতির মধ্যে ৯টিতে সফল হয়েছিল। দুই মডেলের পরীক্ষা একই ধরনের না হওয়ায় এই ফলাফলকে সরাসরি তুলনাযোগ্য হিসেবে দেখা যায় না।নির্দেশনা অমান্য, উদ্বেগ ‘রিওয়ার্ড হ্যাকিং’ নিয়েসাইবার হামলার সক্ষমতার পাশাপাশি মডেলটির নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতাও গবেষকদের নজরে এসেছে। পৃথক পরীক্ষায় স্পষ্টভাবে নিষেধ করার পরও জিএলএম-৫.৩ স্মৃতি থেকে কম্পিউটার কোড পুনরুৎপাদন করেছে। এতে মডেলটি সঠিক উত্তর দিতে পারলেও পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গ করেছে।গবেষকেরা এ আচরণকে ‘রিওয়ার্ড হ্যাকিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে এআই কখনো কখনো নির্দেশনা বা নিয়ম উপেক্ষা করতে পারে। এ ধরনের আচরণ এআই ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।উন্মুক্ত এআই মডেল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগজিএলএম-৫.৩ একটি ‘ওপেন-ওয়েট’ মডেল। ফলে এটি ডাউনলোড করে পরিবর্তন ও নিজস্ব ব্যবস্থায় পরিচালনা করা যায়। তুলনামূলক কম খরচে ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় এ ধরনের মডেল বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে উন্মুক্ত ব্যবহারের সুযোগের কারণে অপব্যবহার ঠেকানোও কঠিন হতে পারে।এআই নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের এক পরীক্ষায় সফটওয়্যারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে কার্যকর আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে জিএলএম-৫.৩-এর সাফল্যের হার ছিল ১২ শতাংশ। একই পরীক্ষায় অ্যানথ্রোপিকের সাইবার নিরাপত্তা মডেল মিথোসের সাফল্যের হার ছিল ১৪ শতাংশ। অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, জিএলএম-৫.৩-এর নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলক সহজ কৌশলেও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জে সু মনে করেন, চীনের এআই শিল্পে আরও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পরীক্ষা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দেশটির শীর্ষ এআই গবেষণাগারগুলোকে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তিনি।বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে, সহজে ব্যবহার ও পরিবর্তনযোগ্য মডেলগুলোর ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সুবিধা বজায় রেখে সাইবার অপরাধে অপব্যবহার প্রতিরোধ করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।