বলিউডকে বাইরে থেকে চাকচিক্যপূর্ণ জগৎ কিংবা একটি পরিবারের মতো মনে হলেও বাস্তবে সেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্বের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ি। তাঁর দাবি, চলচ্চিত্রজগতের কেউ অন্যের সাফল্যে সহজে খুশি হন না। নিজের কাজ ও সাফল্য নিয়েই সবাই ব্যস্ত থাকেন।সম্প্রতি নিজের নতুন সিনেমা ‘গজব রাত’-এর প্রচারে অংশ নিয়ে বলিউডের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই অভিনেতা। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রশিল্পে কাজ করলেও নিজেকে কখনোই বলিউডের পরিবারের অংশ মনে করতে পারেননি বলে জানান তিনি।মনোজ বাজপেয়ির ভাষ্য, বলিউডকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা। এখানে কোনো অভিনেতাই অন্য অভিনেতার সাফল্যে প্রকৃত অর্থে আনন্দিত হন না। একইভাবে একজন পরিচালক অন্য পরিচালকের চেয়ে নিজেকে কম মনে করেন না। কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের বেশি আয় দেখে খুশি হয় না।চলচ্চিত্রশিল্পে পারস্পরিক সৌজন্য ও আন্তরিকতার ঘাটতি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন মনোজ। তাঁর মতে, অন্যের অভিনীত সিনেমা ভালো লাগলেও প্রশংসা জানাতে ফোন করার প্রবণতা খুবই কম। ফলে বলিউডে ভ্রাতৃত্ব কিংবা পারস্পরিক সহযোগিতার যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার মিল নেই।নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই অভিনেতা বলেন, প্রত্যেককে নিজের লড়াই নিজেকেই করতে হয়। অন্য কেউ এসে সাহায্য করবেন—এমন প্রত্যাশা নিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। তাঁর মতে, প্রত্যেকেই নিজের কাজ করবেন, প্রাপ্য পারিশ্রমিক বুঝে নেবেন এবং নিজের গন্তব্যে ফিরে যাবেন। কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ালে সেটিকে বাড়তি প্রাপ্তি হিসেবে দেখা উচিত।বলিউডের শুটিং সেটের পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন মনোজ বাজপেয়ি। তাঁর মতে, সেটে অভিনেতা ও কলাকুশলীদের সঙ্গে সমান আচরণ করা প্রয়োজন। খাবারের ক্ষেত্রেও তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রশিল্পের সামাজিক পরিবেশ বদলে যাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। মনোজ জানান, আগে শুটিংয়ের ফাঁকে অভিনেতারা একসঙ্গে বসে গল্প করতেন, এমনকি কাজ শেষে আড্ডাও দিতেন। কিন্তু এখন শুটিং শেষ হলেই অধিকাংশ অভিনেতা নিজেদের সাজঘরে চলে যান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটান।মনোজ বাজপেয়ির মতে, চলচ্চিত্রশিল্পে কাজ করতে হলে অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের কাজ ও দায়িত্বের প্রতি মনোযোগী হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বলিউডকে পরিবার বা ভ্রাতৃত্বের জায়গা মনে না করে বাস্তবতা মেনে নিয়েই কাজ করা উচিত।