ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’র প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার কৃষি খাত। সদ্য বপন করা সরিষা ও আলু বীজ জমিতে বৃষ্টির পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। মাঠে জমে থাকা পানি যেন তাদের স্বপ্ন ভাসিয়ে নিচ্ছে।টানা বৃষ্টি আর মাঝেমধ্যে দমকা বাতাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। হঠাৎ এই অকালবৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আলু ও সরিষা চাষিরা। এ সময়টাতেই চাষিরা মাঠে আলু ও সরিষার বীজ বপন করে থাকেন। কিন্তু মোন্থার প্রভাবে আঘাত হানা বৃষ্টিতে সেই বীজের অধিকাংশই এখন পানির নিচে।উপজেলার হাটিকুমরুল, পূর্ণিমাগাতী, রামকৃষ্ণপুর, দুর্গানগর, মোহনপুর ,বড়পাঙ্গাসী ,উধুনিয়া, সালঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফসলি জমিতে পানি জমে আছে। কোথাও সদ্য রোপণ আলু ও সরিষা বীজ জমিতে পচে গলে যাচ্ছে। কৃষকেরা অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন তাদের ফসল ধ্বংসের দৃশ্য।দূর্গানগর ইউনিয়নের রাউতান গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর এই সময়েই আলু চাষ করি। কিন্তু এমন বৃষ্টি অনেক দিন পর দেখলাম। আলু লাগানোর পরপরই জমি তলিয়ে গেছে। এখন সব বীজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঋণ করে চাষ করেছিলাম, এখন বুঝতে পারছি না কী করবো। পানিতে এখন আলু বীজ পচে যাচ্ছে। নতুন করে আলু রোপণ করতে হবে জমিতে। সরকারের কাছে আবেদন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাহায্য করা হোক।পূর্ণিমাগাতীর কৃষক এনামুল হক বলেন,চার দিন আগে সরিষা বীজ বপন করেছিলাম কিন্তু বৃষ্টির কারনে জমিতে পানি জমেছিলো এই অবস্থায় বীজ থাকবে না, সব পচে যাবে। এখন আবার নতুন করে জমি তৈরি করা, বীজ কেনা সবই কঠিন হবে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন , বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নের কিছু না কিছু জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শুরু করেছেন এবং কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য।স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ক্রমাগত প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষিকাজ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা বলেন, খরচ বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদন কমছে। একদিকে বীজ সারের দাম বেশি, অন্যদিকে এমন দুর্যোগে ফসল টিকছে না।মাঠে জমে থাকা পানিতে এখনো অনেক জমি ডুবে আছে। কোথাও দেখা যাচ্ছে পচে যাওয়া আলুর বীজ, কোথাও ভেসে থাকা সরিষার চারা। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে পচা বীজের গন্ধ। অনেক কৃষক ইতোমধ্যেই নতুন করে চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে তারা বলছেন, আবারও বৃষ্টি হলে সেই পরিশ্রমও বিফলে যাবে।মৌসুমের শুরুতেই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। উল্লাপাড়ার গ্রামীণ জনজীবনে এখন শুধু একটাই আলোচনা “মোন্থা” সব আশা কেড়ে নিলো।