বনদস্যুদের তাণ্ডব, অপহরণ ও মারধরের ঘটনায় সুন্দরবন এলাকাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাগর ও উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫০ জন জেলে অপহৃত হওয়ার ঘটনায় প্রাণভয়ে সাগর ও নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার জেলে।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জিম্মি জেলেদের উদ্ধারে এবং দস্যু দমনে সুন্দরবনজুড়ে ‘কম্বিং অপারেশন’ শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে এই অভিযান শুরু হয়।কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, বনের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ জেলেরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অপহরণের পর জেলেদের মারধর করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে আতঙ্কে দুবলার চরসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার ট্রলার ও নৌকা তীরে পড়ে আছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মঙ্গলবার সকাল থেকে সুন্দরবনের দুবলা, হারবাড়িয়া, কোকিলমনি, নন্দবারা ও জোংড়াসহ বিভিন্ন দুর্গম খালে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। বিশেষ এই কম্বিং অপারেশনে র্যাব, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশ নিয়েছেন।দিনভর বনের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হলেও সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো অপহৃত জেলেকে উদ্ধার কিংবা কোনো দস্যুকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জিম্মিদের উদ্ধার ও সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাগরে মাছ ধরার শেষ মৌসুমে দস্যু আতঙ্কে জেলেরা কার্যক্রম বন্ধ রাখায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জেলেরা দ্রুত অপহৃতদের উদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।