সলঙ্গায় তিন ফসলি কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে সলঙ্গা থানা ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম এর বিরুদ্ধে। এতে একদিকে কমে যাচ্ছে চাষাবাদযোগ্য জমি, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা। ফলে দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে সবুজ কৃষি পরিবেশ।সরেজমিনে দেখা যায়, সলঙ্গা থানার দত্তকুশা কালিপুর গ্রামে কৃষিজমি খনন করে সেই মাটি ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। টপ সয়েল বা উর্বর মাটি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।স্থানীয়দের অভিযোগ, এক্সকাভেটর দিয়ে জমির উপরের উর্বর মাটি কেটে ১০-১৫ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করা হচ্ছে। ফলে জমি জলাশয়ে পরিণত হচ্ছে এবং আশপাশের ফসলি জমি ও বসতভিটা ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। এতে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক তাদের জমি সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।এদিকে ট্রলি ও ট্রাকে করে মাটি পরিবহনের ফলে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব যানবাহনের অধিকাংশেরই নেই বৈধ কাগজপত্র। অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের দ্বারা এসব যান চালানো হচ্ছে, যার ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে।আইন উপেক্ষা করেই চলছে কার্যক্রম‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন’-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে, কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে আইনের প্রয়োগ না থাকায় ভাটার মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নীতিমালা উপেক্ষা করে নির্বিচারে কেটে নেওয়া হচ্ছে তিন ফসলি জমির মাটি।স্থানীয়দের অভিযোগস্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাশিদবকোল, জোনজালীপাড়া ও দত্তকুশা কালিপুর এলাকায় দিন-রাত কৃষিজমি খনন করা হচ্ছে। এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সলঙ্গা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাইয়ুম ইসলাম। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।এ বিষয়ে কাইয়ুম ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “এটা আমার পয়েন্ট,” এবং পরে তিনি আরেক ছাত্রদল নেতার কাছে ফোনটি হস্তান্তর করেন।রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল খালেক পাটোয়ারী জানান, “ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। যে দলেরই হোক, কেউ যদি অবৈধভাবে পুকুর খনন বা জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”সমাপনী কথাদ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে কৃষিজমি ধ্বংসের এ প্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।