তিন লাখ কোটি টাকার রেকর্ড এডিপি অনুমোদনশিক্ষা-স্বাস্থ্য-যোগাযোগে বড় বরাদ্দ, ১১২১ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাআগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার রেকর্ড আকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। উন্নয়ন পরিকল্পনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার, আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন এবং সামাজিক সংহতি জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পে আরও ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যুক্ত হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে তিন লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকার বেশি।কার্যপত্রে বলা হয়েছে, পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলগত কাঠামোর আলোকে এবারের উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনাকে পাঁচটি প্রধান স্তম্ভে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিনির্ভর সামাজিক সংহতি জোরদার।রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার অংশে বিচার ও আইনগত সেবা সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন, সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহু-বছর মেয়াদি সরকারি বিনিয়োগ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ।এছাড়া শিক্ষা খাতে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দে সর্বোচ্চ অর্থ পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার পরিমাণ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ পেয়েছে।এবারের এডিপিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে।পাশাপাশি এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে। আগামী জুনের মধ্যে ২২৩টি প্রকল্প সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জুন ২০২৭ সালের মধ্যে সমাপ্তিযোগ্য প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্পে নতুন ব্যয় সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।