ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদের অভিযোগে আতঙ্কে চর ফরিদপুরের ভূমিহীন পরিবারসিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চর ফরিদপুর এলাকায় ফুলজোড় নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদের চাপের অভিযোগ উঠেছে একটি ভূমিহীন পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ওই পরিবারটি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর ফরিদপুর মৌজার এসএ ১ নম্বর খতিয়ানের ৮২ নম্বর দাগে প্রায় ৯ শতক জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন আমীর হোসেন ও তাঁর পরিবার। তাদের দাবি, ১৯৯১ সালে সরকারিভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতেই তারা বসতি গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করে জীবনযাপন শুরু করেন।বর্তমানে ওই এলাকায় ফুলজোড় নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের বসতভিটার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তবে পরিবারটির অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করেই তাদের জায়গা ছাড়তে চাপ দেওয়া হচ্ছে।পরিবারের সদস্যরা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। এরই মধ্যে বসতঘরের পাশে থাকা কিছু স্থাপনা, টিউবওয়েল ও গাছপালা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ঘরগুলোও ভেকু মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।বৃদ্ধা কহিনুর বেগম বলেন, এই বাড়িই তাদের শেষ সম্বল। দীর্ঘ কষ্টে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, টিনশেডের কয়েকটি ছোট কক্ষ নিয়ে গড়ে উঠেছে পরিবারটির বসতভিটা। চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ। পরিবারটির দাবি, এটাই তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল।এ বিষয়ে স্থানীয় এক সমাজসেবক বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম প্রয়োজন হলেও দীর্ঘদিনের বসবাসকারীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা জরুরি।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন এবং জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত।রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে সেতু নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন আমীর হোসেনের পরিবার। ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আশায় এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তারা।