জনপরিসরে পশু জবাই নিষিদ্ধ: কোরবানির ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নিয়ে পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টেরপশ্চিমবঙ্গে উন্মুক্ত জনপরিসরে গরু ও মহিষসহ কোনো গবাদিপশু জবাইয়ের ওপর জারি করা প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কোরবানির ধর্মীয় তাৎপর্য নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গও রায়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।আইনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘লাইভ ল’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জানিয়েছে, উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই “কঠোরভাবে নিষিদ্ধ” থাকবে।রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করে, সুপ্রিম কোর্টের একটি পূর্ববর্তী মামলার (মোহাম্মদ হানিফ কোরেশি ও অন্যান্য বনাম বিহার রাজ্য) পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল—গরু কোরবানি ঈদুল আজহার আবশ্যিক ধর্মীয় বিধান নয় এবং এটি ইসলামের মৌলিক বাধ্যতামূলক অনুশাসনের অংশ হিসেবেও বিবেচিত নয়।তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ মূলত নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষাপটে দেওয়া ব্যাখ্যা, যা ধর্মীয় অনুশাসনের সামগ্রিক ব্যাখ্যার সমতুল্য নয়।আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর ১২ ধারার অধীনে ধর্মীয় প্রয়োজনে কোনো ছাড় দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকারকে আইন অনুযায়ী বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।এর আগে ১৩ মে জারি করা এক সরকারি নির্দেশিকায় পশু জবাই সংক্রান্ত বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। নির্দেশিকায় বলা হয়, কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না এবং জনপরিসরে পশু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে একাধিক আবেদন দাখিল করা হয়, যার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রসহ কয়েকজন আইনগত চ্যালেঞ্জ জানান।আদালতের এই রায়ের ফলে আপাতত পশ্চিমবঙ্গে জনপরিসরে পশু জবাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বহাল থাকছে এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে ধর্মীয় বিধান পালনের ক্ষেত্রে আইনি ব্যাখ্যা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট