ফিডারভিত্তিক লোডশেডিংয়ের অভিযোগ, নেছারাবাদে বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তিপিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ফিডারভিত্তিক বৈষম্যমূলক সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো কোনো এলাকায় দিনে মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে, অথচ নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় লোডশেডিং তুলনামূলক কম হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।স্থানীয় বাসিন্দা ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম পাড় এলাকায় চারটি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দুটি ফিডারে তুলনামূলক স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও বাকি দুটি ফিডারে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, ৪ নম্বর ফিডার এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তার বাসা থাকায় সেখানে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হয়। একইভাবে ২ নম্বর ফিডার এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার থাকায় ওই এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়। অন্যদিকে ৩ ও ৫ নম্বর ফিডারভুক্ত গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিন-রাত মিলিয়ে কয়েক ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ পাশের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ খুব কমই বিচ্ছিন্ন হয়। এ ধরনের বৈষম্য মেনে নেওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেন তারা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মচারী জানান, লাইনের পাশের গাছপালা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টি বা বাতাসেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। আগে বছরে কয়েকবার লাইন ক্লিয়ারিংয়ের কাজ করা হলেও বর্তমানে সেই কার্যক্রম অনেকটাই কমে গেছে।এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নেছারাবাদ জোনাল অফিসের বর্তমান ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে সব এলাকায় সমানভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নেছারাবাদ কৌরিখাড়া পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম জানে আলম। তিনি বলেন, “৩ ও ৫ নম্বর ফিডারের বেশিরভাগ এলাকা গ্রামাঞ্চলে হওয়ায় লাইনের পাশে গাছপালা বেশি রয়েছে। বৃষ্টি ও বাতাসের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হয়। এছাড়া ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট থাকায় সময়মতো গাছপালা পরিষ্কারের কাজ করা যায়নি। তবে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হচ্ছে না। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”