ওয়াশিংটন, ৬ জুন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। এ রায়ের ফলে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড এবং অন্যান্য বৈধ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার পথ আবারও উন্মুক্ত হলো।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক জন ম্যাককনেল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) গৃহীত একগুচ্ছ বিতর্কিত নীতি বাতিলের নির্দেশ দেন। আদালতের মতে, এসব নীতির কারণে হাজারো অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে চরম আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।রায়ে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কংগ্রেস প্রণীত আইন ও ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ করে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সংস্থাটি তাদের আবেদনগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে মাসের পর মাস প্রক্রিয়া স্থগিত রাখে, যা আইনের পরিপন্থী।তিনি উল্লেখ করেন, আবেদনকারীদের কোনো ব্যক্তিগত ত্রুটির কারণে নয়, বরং তাদের জন্মস্থানের ভিত্তিতেই এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।আদালতের এ সিদ্ধান্তকে অভিবাসী অধিকার সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর জন্য বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত মার্চে এসব সংগঠন ইউএসসিআইএসের বিতর্কিত নীতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসিতে দায়িত্ব পালনরত দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ আরও জোরদার করে। প্রসিকিউটরদের দাবি ছিল, ওই হামলায় এক আফগান অভিবাসী জড়িত ছিলেন। এরপর প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসনসংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়া কঠোরভাবে সীমিত করে এবং বহু আবেদন স্থগিত রাখে।একই সময়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো’ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৯-এ উন্নীত করা হয়।পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা ও সিরিয়া উল্লেখযোগ্য। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জোরদারের স্বার্থে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।তবে বিচারক ম্যাককনেল রায়ে বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। ইউএসসিআইএস অভিবাসন আইন এবং সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনাসংক্রান্ত প্রশাসনিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি। ফলে তাদের গৃহীত নীতিমালা আইনগতভাবে টেকসই নয়।আদালতের এই রায়কে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে চলমান বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।আরও চটকদার অনলাইন সংস্করণের জন্য শিরোনাম হতে পারে: “ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা, আদালতের রায়ে খুলল ৩৯ দেশের অভিবাসীদের পথ”।