সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাট সংলগ্ন সরকারি খাস জমি দখল করে পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরজুড়ে সরকারি ভূমিতে একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো গড়ে উঠলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সলঙ্গা হাটের মধ্যপাড়া ভরমোহনী মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত আরএস দাগ নম্বর ৬২৩, ৬৩৯, ৬৩৮ ও ৬৩৭-এর অন্তর্ভুক্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। সুইচগেট থেকে সলঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পর্যন্ত করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরজুড়ে এসব নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি খাস জমি দখল করে সেখানে দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন আমজাদ হোসেন, জুলফিকার আলী রাঙ্গা, করুন সাহা, বরুন সাহা, যুগোল পোদ্দার, শাহিন হোসেন, খোকন, শহিদুল ইসলাম, রোকেয়া সুলতানা, নাজমুল আলম, আব্দুল মতিন, শেফালী বেগম, হিলটন ও রফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন।স্থানীয়দের দাবি, দখলকৃত জমিতে কেউ নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করছেন, আবার কেউ পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। ফলে সরকার একদিকে মূল্যবান সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।এ বিষয়ে ঘুরকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী মুনসুর আলী বলেন, “সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, “সরকারি জমি অপদখলের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক জমি উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে সরকারি জমি দখলের প্রবণতা আরও বেড়ে যেতে পারে।