দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, অতীতে জোরপূর্বক যাদের কাছ থেকে ব্যাংকটির শেয়ার নেওয়া হয়েছিল, তা দ্রুত প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার অন্যতম প্রতীক। কোনো কারণে এই ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এস আলম গ্রুপের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত একজন ব্যক্তিকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।শেয়ারহোল্ডারদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের কাছ থেকে অতীতে অন্যায়ভাবে শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছিল, তাদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালনায় অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রায় ১০ হাজার কর্মচারী যথাযথ নিয়োগবিধি অনুসরণ না করেই চাকরি পেয়েছিলেন। পরে তাদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হলেও তারা তাতে অংশ নেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এক বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে ৭০০ কোটি টাকা ঋণের অর্থ গেছে—এমন অভিযোগ প্রমাণ করা গেলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পুরস্কৃত করবেন। একই সঙ্গে দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের মধ্যেও ব্যাংকটি নিয়ে উৎকণ্ঠা রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে জাতীয় অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র চার দিনে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা আমানত উত্তোলন করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক পূর্বধারণা নয়, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামী ব্যাংককে রক্ষা করার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি ব্যাংকের আমানতকারীরা ইতোমধ্যে অর্থ ফেরত না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ইসলামী ব্যাংকের মতো বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়লে তার প্রভাব গোটা অর্থনীতিতে পড়বে।তিনি ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।