জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যের উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি দেখা গেছে। সংসদে মন্ত্রী দাবি করেন, আরডিএস প্রকল্পের আওতায় ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এর একটি বড় অংশের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ইসলামী ব্যাংকের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকল্পটির ঋণ পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস)-এর মাধ্যমে মোট ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ আগস্টের পর আরও ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং ওই অর্থের একটি বড় অংশের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন।তবে ইসলামী ব্যাংকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে আরডিএস প্রকল্পের মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের শেষে এই স্থিতি ছিল ৬ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঋণ স্থিতি বেড়েছে মাত্র ৭৭ কোটি টাকা, যা শতাংশের হিসাবে ১ দশমিক ১৪ শতাংশ।ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আরডিএস প্রকল্পের ঋণ আদায়ের হার এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে এ খাতে আদায়ের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের তুলনায় খুবই সামান্য।প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটি চালুর পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৩৫ হাজার ৩৫২টি গ্রামের প্রায় ১৭ লাখ ৭৫ হাজার পরিবারকে আরডিএসের আওতায় ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সংসদে উত্থাপিত তথ্য ও ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রয়োজন। বিষয়টি স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এলে প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।