জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ব্যক্তি পর্যায়ের অনুদান উৎসাহিত করতে ব্র্যাকসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানে দান বা অনুদানের বিপরীতে কর রেয়াত সুবিধা দিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধা কার্যকর থাকবে।শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৭৬-এর উপধারা (১) অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানকে জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে কর রেয়াতের আওতায় আনা হয়েছে।নতুন করে সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ব্র্যাক, বাংলাদেশ ক্যানসার এইড ট্রাস্ট, এএসএইচআইসি, ফাউন্ডেশন ফর চিলড্রেন ক্যানসার, আল-মারকাজুল ইসলামী, ডিজেবলড চাইল্ড ফাউন্ডেশন (ডিসিএফ), শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি, মাওনা ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি, অটিজম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন ঢাকা এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল।এর আগে গত বছরের মে মাসে আরও নয়টি প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এ সুবিধা বহাল থাকবে।কর রেয়াত পেতে করদাতাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়ার পর রসিদ বা গ্রহণপত্র সংগ্রহ করতে হবে। বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় অনুদানের তথ্য উল্লেখের পাশাপাশি প্রমাণপত্রও সংযুক্ত করতে হবে।তবে অনুদানের পুরো অর্থ সরাসরি কর থেকে বাদ যাবে না। বরং অনুদানের পরিমাণ করযোগ্য আয় থেকে সমন্বয় করা হবে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যক্তির করযোগ্য আয় যদি ১০ লাখ টাকা হয় এবং তিনি অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ টাকা অনুদান দেন, তাহলে তার করযোগ্য আয় কমে ৯ লাখ টাকায় নেমে আসবে। এরপর ওই সমন্বিত আয়ের ওপর প্রচলিত হারে কর নির্ধারণ করা হবে।এনবিআরের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যক্তি পর্যায়ের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।