সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে কথিত ‘পুশ ইন’ এবং সীমান্ত হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। তারা বলেছেন, সীমান্তে জোরপূর্বক মানুষ পাঠানো আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্কের জন্যও ক্ষতিকর।শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন।বক্তারা অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা এবং জোরপূর্বক লোকজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এ বিষয়ে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।গোলটেবিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমান বলেন, সীমান্তসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত। তিনি সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি রোধে উভয় দেশকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হারুন সোহেল বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। কোনো ধরনের আধিপত্যবাদী আচরণ জনগণ মেনে নেবে না।জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন বলেন, সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। তিনি দল-মত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, সীমান্তে অনুপ্রবেশ, পুশ ইন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধিরও দাবি জানান তারা।সভাপতির বক্তব্যে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে সরকারের কাছে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জিয়া, ডিভাইন কোডেকের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল্লাহ মানসুর আবির, জাতীয়তাবাদী চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।