চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। বিএনপি সরকার যেভাবে রেখে গিয়েছিল, দীর্ঘ সময় পরও সড়কের অবস্থা প্রায় একই রয়ে গেছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও নিরাপদ হয়।”প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষক। তাই কৃষকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, লবণ চাষিদের জন্য ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তারা উৎপাদনের যথাযথ মূল্য পান।‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’— এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কল্যাণের জন্য।এর আগে সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। নিজ হাতে মাটি কেটে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়; এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় সাড়ে আট হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।তিনি জানান, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে।নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপবৃত্তি কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হবে।গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, হার্টের রিং ও কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।জাতীয় বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “কর বৃদ্ধি করা হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর। কারণ এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের ২০ কোটি মানুষ। তাদের কল্যাণই সরকারের সকল কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।”