২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সূচনা করতে পারেনি ব্রাজিল। শক্তিশালী মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্রয়ে মাঠ ছাড়ার পর দলের দুর্বলতা ও নিজের কৌশলগত সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার মতে, ম্যাচের শুরুতে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত চাপ ও উদ্বেগই জয় হাতছাড়া হওয়ার অন্যতম কারণ।রোববার নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর সুযোগ নিয়ে ২১তম মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। তবে ৩২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোল ব্রাজিলকে সমতায় ফেরায়।ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, “আমাদের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। খেলোয়াড়দের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছিল। ফলে সহজেই বল হারিয়েছি এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়েও পিছিয়ে ছিলাম। প্রথমার্ধে আমরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারিনি। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা উন্নতি করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।”ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা আনচেলত্তি মনে করেন, শুরুর চাপ কাটিয়ে উঠতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।তিনি বলেন, “যদি শুরুতেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতাম, তাহলে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পারতাম এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের কাছে রাখতে সক্ষম হতাম।”তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এমন পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না ইতালিয়ান এই কোচ। তিনি বলেন, “আমি নিজেও কিছুটা চাপ অনুভব করেছি। অনেক সময় দলকে ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। আমরা বেশ কিছু ভুল করেছি, যেগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে। তবে এই ফলাফলে আত্মবিশ্বাস হারানোর কোনো কারণ নেই। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। প্রথম ম্যাচ জিতলেই কেউ বিশ্বকাপ জেতে না।”মরক্কোর শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলেরও প্রশংসা করেন আনচেলত্তি। তার মতে, প্রতিপক্ষ পুরো ম্যাচজুড়ে সংগঠিত ছিল এবং ব্রাজিলের জন্য জায়গা তৈরি করা কঠিন করে তুলেছিল।তিনি বলেন, “আমাদের স্কোয়াডে গভীরতা আছে। সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। সামনে আরও উন্নতি করে টুর্নামেন্টে শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।”আগামী ২০ জুন গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। সেই ম্যাচের আগে দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর করে তুলতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন আনচেলত্তি।এদিকে ব্রাজিলের একমাত্র গোলদাতা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কোচ। দীর্ঘদিনের শিষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “ভিনিসিয়ুস অসাধারণ খেলেছে। পুরো ম্যাচজুড়ে সে প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার সব সামর্থ্য তার আছে। আমি বিশ্বাস করি, এই বিশ্বকাপে সে আরও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স উপহার দেবে।”