রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিলকে সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান হিসেবে দেখছে না বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ)।সোমবার সংগঠনটির অফিস সম্পাদক আরিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ মতামত জানানো হয়।বিবৃতিতে বিপিএইচসিডিওএর সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ও মহাসচিব ডা. এ এম শামীম সাম্প্রতিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তারা নিহত শিশুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তদন্তে কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্বে ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।সংগঠনটি জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাজনিত জটিলতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে থাকে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ত্রুটি চিহ্নিত করা, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়।বিবৃতিতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় তদারকি, নির্দেশনা এবং সংশোধনমূলক শর্ত আরোপের মাধ্যমে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তা যেন যথাযথ তদন্ত ও বিধিসম্মত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।বিপিএইচসিডিওএ আরও উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিশনে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের সংগঠনের কোনো প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের তদন্ত ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ সুপারিশ প্রণয়ন সহজ হবে বলে সংগঠনটির বিশ্বাস।সংগঠনটির মতে, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হলে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বেশি ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন। তাই এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনস্বার্থ ও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।বিবৃতির শেষাংশে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিপিএইচসিডিওএ।