তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অতীতের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্র গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতির মাধ্যমে পরিচালনা করার চেষ্টা করত। তবে বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে সরে এসে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত সমস্যার সমাধানে সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।তথ্যমন্ত্রী বলেন, ১৬ জুন বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে একটি কালো দিন। তবে বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের সামনে নতুন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের ফলে তথ্যপ্রবাহের ধরন বদলে গেছে। তাই শুধু অতীতের ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা নয়, বরং নতুন বাস্তবতার আলোকে উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কঠোরভাবে সংকুচিত করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী প্রবণতা মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমানে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সত্য ও বিভ্রান্তিকর—উভয় ধরনের তথ্য দ্রুত তৈরি ও প্রচার করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে তথ্য যাচাই, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার বিষয়টি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।নাগরিক সাংবাদিকতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ খাতকে নীতিমালার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু রাষ্ট্রের সদিচ্ছা থাকলেই হবে না; গণমাধ্যম মালিকদেরও সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রকেও সাংবাদিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে। খুব শিগগিরই আধা-বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যা গণমাধ্যম খাতের জবাবদিহি ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী, মারুফ কামাল খান সোহেলসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।