দেশে বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবকে “গভীর সংকট” হিসেবে উল্লেখ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং দেশে একটি “টেকসই সাংস্কৃতিক বিপ্লব” গড়ে তোলার আহ্বান জানান।বিনোদনকে মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিআসিফ আকবর তার পোস্টে বলেন, জনবহুল বাংলাদেশে বিনোদনকে ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তার মতে, বিনোদনের অভাব শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করছে এবং সমাজে হতাশা ও সহিংসতা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।তিনি আরও উল্লেখ করেন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে মননশীল সমাজ গঠনের অন্যতম কার্যকর উপায় হিসেবে কাজ করে।সাংস্কৃতিক বিকাশে ইতিহাস ও নীতির প্রসঙ্গতার বক্তব্যে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর সাংস্কৃতিক নীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৭৯–৮০ সালের দিকে দেশীয় ও পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহ এবং নীতিগত সহায়তা বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীত বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।তিনি দাবি করেন, অতীতের কিছু নীতি ও কর সুবিধার কারণে দেশীয় সংগীতশিল্পে নতুন ধারার বিকাশ ঘটেছিল, যা ৯০-এর দশকে ব্যান্ড সংগীতের প্রসারে সহায়ক হয়।বর্তমান প্রেক্ষাপট ও প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জআসিফ আকবর তার স্ট্যাটাসে আধুনিক প্রযুক্তি ও “এআই মিউজিক” প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নতুন প্রযুক্তির যুগে সৃজনশীল শিল্পকে সুরক্ষিত রাখতে ওয়েস্টার্ন মিউজিক যন্ত্র ও প্রযুক্তির চর্চা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।তিনি সাম্প্রতিক বাজেটে কিছু শুল্ক কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন।বিশ্ব প্রেক্ষাপটে সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণতিনি আরও বলেন, বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। তাই বাংলাদেশকে পিছিয়ে না পড়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।শেষ আহ্বানতার মতে, সুস্থ জাতি গঠনের জন্য বিনোদন ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, সারাদেশে একটি পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করার জন্য।