দীর্ঘ কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরমে যখন রাজধানী ঢাকার জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত, তখন আকস্মিক বৃষ্টিপাতে নেমে এসেছে স্বস্তির পরশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হলে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।দুপুর ১২টার পর থেকেই ঢাকার আকাশ ধীরে ধীরে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এরপর বেলা প্রায় ১টার দিকে হঠাৎ করেই শুরু হয় ভারী বর্ষণ। রাজধানীর ইসলামপুর, নয়াবাজার, বংশাল, পল্টন, শাহবাগ, গুলিস্তান ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বৃষ্টির খবর পাওয়া যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো সময় ধরে চলে এই বৃষ্টিপাত।বৃষ্টির ফলে দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরম অনেকটাই কমে যায়। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষরা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই বৃষ্টির এই মুহূর্তকে স্বাগত জানিয়ে ছবি ও অনুভূতি প্রকাশ করেন।তবে স্বস্তির এই বৃষ্টি রাজধানীতে কিছু ভোগান্তিও সৃষ্টি করে। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা বিপাকে পড়েন। একইসঙ্গে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় যানজটের। গণপরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া যায়।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে কয়েকদিন ধরে যে অস্বস্তিকর গরম বিরাজ করছিল, এই বৃষ্টির ফলে তা অনেকটাই কমে এসেছে। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।আবহাওয়াবিদ আব্দুল হামিদ বলেন, “দুপুরের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে তাপমাত্রা কমে আবহাওয়া অনেকটা স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠেছে।”তিনি আরও জানান, দেশের ফরিদপুর, কুষ্টিয়াসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং এতে সারাদেশে তাপমাত্রা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সামগ্রিকভাবে সাময়িক ভোগান্তি থাকলেও দীর্ঘদিনের তীব্র গরম থেকে মুক্তি পেয়ে ঢাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ও স্বস্তির আবহ বিরাজ করছে।