যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতার পথে এগোলেও নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় এবং এটি কোনো আলোচনার টেবিলের অংশ হতে পারে না।বৃহস্পতিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য, আলোচনার জন্য নয়। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কোনো পক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয় হতে পারে না।’এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেন। এর মাধ্যমে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের অবসান ঘটে।সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরি হলেও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি।যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে তেহরান একই সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে পাল্টা প্রতিরোধ অব্যাহত রাখে।সংঘাত শুরুর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও আলোচনার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিলেন। ওয়াশিংটনের মতে, এ কর্মসূচি ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর জন্য নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করে। তবে ইরান বরাবরই এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সম্প্রতি কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে ইরানেরও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র থাকা অস্বাভাবিক নয়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক অস্ত্র এক বিষয় নয়।’বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী কূটনৈতিক অগ্রগতির পরও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য বহাল থাকায় ভবিষ্যৎ আলোচনায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।