বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যালয়টির নতুন নাম হতে পারে ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শিবগঞ্জ, বগুড়া’। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শিবগঞ্জ উপজেলার একমাত্র পাইলট বালিকা বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (বেসরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা) সিনিয়র সহকারী সচিব শিরীন আক্তার স্বাক্ষরিত ৯ জুনের এক চিঠিতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়।মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের (ইআইআইএন: ১১৯৮৪২) নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রস্তাবটি ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) স্থাপন, পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা-২০২২ (সংশোধিত-২০২৩)’ অনুযায়ী পর্যালোচনা করতে হবে।এ লক্ষ্যে বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয়তা এবং স্থানীয় জনমতের প্রতিফলনসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক, শিক্ষক ও অন্যান্য অংশীজনের মতামত অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী এবং বগুড়ার জেলা প্রশাসককে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।এদিকে বিদ্যালয়ের নামের সঙ্গে নতুন করে ‘মীর শাহে আলম’ নাম যুক্ত করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নাম অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে একটি অংশ নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি এখন শুধু একটি নাম পরিবর্তনের প্রশ্ন নয়; বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য, জনমত এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ও হয়ে উঠেছে। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে প্রশাসনের তদন্ত ও স্থানীয় মতামতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।