বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি বদলায়নি। তাঁর অভিযোগ, অতীতে যারা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, তাদের অনেক ক্ষেত্রেই কেবল “হাত বদল” হয়েছে, কিন্তু প্রশাসনিক অসঙ্গতি ও দুর্নীতির ধারা অব্যাহত রয়েছে।শুক্রবার (১৯ জুন) নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াত ইসলামের উদ্যোগে অক্টোঅফিস কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি আরও বলেন, “পেটের দায়ে ভিক্ষা করা জায়েজ হতে পারে, কিন্তু চুরি-ছিনতাই কিংবা অন্যের অধিকার হরণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”তিনি অভিযোগ করেন, দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং এমন কোনো উদ্যোগ জনগণ মেনে নেবে না। তাঁর ভাষায়, “জোরপূর্বক শাসন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণই এর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”সরকারি বিভিন্ন খাতের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রবণতা বাড়ছে। এতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।তিনি আরও বলেন, অতীতে সংসদে বিরোধী দলকে অবমূল্যায়নের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা এখনো পরিবর্তন হয়নি। তরুণ প্রজন্ম বিভাজনের রাজনীতি নয়, বরং জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সঠিক বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ। অতীতের অনিয়ম ও লুটপাটের ধারা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে জনগণের আস্থা অর্জন কঠিন হবে।নারায়ণগঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একসময় এই শহর দেশের অন্যতম শিল্পকেন্দ্র ছিল। শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, মিথ্যাচার ও অপপ্রচার দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। তাঁর মতে, জনগণ এখন আরও সচেতন এবং তারা কথার চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দেয়।নগর উন্নয়ন ও আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যোগ্য, সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব ছাড়া কার্যকর পরিবর্তন সম্ভব নয়। এ সময় তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে মাওলানা আব্দুল জব্বারকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।