বিদ্যমান সংবিধান কেবল সংশোধন নয়, বরং সামগ্রিক ‘সংবিধান সংস্কার’-এর জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে সংসদীয় বিরোধী দল। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত কাঠামো স্পষ্ট না হলে কোনো প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ অবস্থান তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, সরকার যদি সংবিধান সংস্কার কমিটির সুস্পষ্ট রূপরেখা না দেয়, তাহলে বিরোধী দল কোনো ধরনের আলোচনায় অংশ নেবে না। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের কথাও জানান তিনি।‘যৌক্তিক বিরোধী দল’ হিসেবে ভূমিকার ঘোষণামতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান বিরোধী দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, তারা “নরমও নয়, গরমও নয়”—বরং জনগণের স্বার্থে একটি “যৌক্তিক বিরোধী দল” হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। সব দাবি ও সমালোচনা যুক্তিসংগতভাবে উপস্থাপন করা হবে বলেও তিনি জানান।বাজেট ও অর্থনীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনাবাজেট প্রক্রিয়া ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি দাবি করেন, মার্চের সম্পূরক বাজেট জুনে পাস করাকে কেন্দ্র করে বিপুল অর্থ লুটপাটের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।তার ভাষায়, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার “হরিলুটের পরিকল্পনা” রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।সীমান্ত ও বিএসএফ ইস্যুতে অভিযোগভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইনসহ সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। এ বিষয়ে সংসদে আনা নোটিশ কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে এবং পরবর্তীতে তা কার্যসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন ডা. শফিকুর রহমান।উপস্থিতিমতবিনিময় সভায় বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং সংসদ বিটের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।সভাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে সংবিধান সংস্কার, বাজেট ও সীমান্ত ইস্যুতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।