সারা দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ করা গেলে সাধারণ মানুষের জীবনে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জেলা জামায়াতের বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি নিজেদের নেতাকর্মীদের সামাজিক অপকর্ম থেকে বিরত রাখতে না পারে, তাহলে সেই দলের দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার থাকে না। যে দল নিজস্ব কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হবে, তারাই দেশে কার্যকর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সম্পদের পাহাড় গড়া নয়; আমরা চাই দেশের মানুষ ভালো থাকুক। জনগণ যে দায়িত্ব ও আমানত আমাদের ওপর অর্পণ করবে, তা রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে যদি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যে সংসদ জনগণের স্বার্থ ও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেই সংসদে থাকার কোনো যৌক্তিকতা থাকবে না।”সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা সরকারকে সময় দিতে চান। তবে সেই সময় অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। তিনি সরকারের ভালো কাজের প্রমাণ হিসেবে চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতে কর কমানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। এর কারণ হিসেবে তিনি বাজারে বিদ্যমান সিন্ডিকেট ব্যবস্থাকে দায়ী করেন।ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্য, “দেশের বিভিন্ন খাতে সক্রিয় সিন্ডিকেটগুলো রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পায় বলেই টিকে আছে। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না থাকলে কোনো সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারত না।”