মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পথ সুগম করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসে এবং জনগণের মতপ্রকাশের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়।শনিবার মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘তার জীবন, কর্ম ও আদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংকটময় সময়ে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার মূল চেতনার অন্যতম ভিত্তি ছিল গণতন্ত্র। সেই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতেই জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে এবং জনগণই সরকারের কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবে। তিনি জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক সহনশীলতা, ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।এ সময় তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচারী বা দমনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বিশেষ আলোচক ছিলেন মাভাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু।এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।