দেশের তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পাঁচ দিনব্যাপী ‘উদ্যোক্তা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।সোমবার (২২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।বিসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সহকারী অনুষদ সদস্য মো. আশিকুর রহমান জয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের পরিচালক (দক্ষতা ও প্রযুক্তি) মো. সহিদুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম। এছাড়া কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, বিসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রধান অনুষদ সদস্য ও কোর্স পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম, সহযোগী অনুষদ সদস্য ও কোর্স সমন্বয়কারী মো. কামরুল আহসানসহ শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে মো. সহিদুজ্জামান বলেন, দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে বিসিকের ১৯১টি কার্যালয়ের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং বছরে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ঋণ সুবিধাও প্রদান করা হচ্ছে।প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, দেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেও সে অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। এ বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, সব গ্র্যাজুয়েটের জন্য চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তারা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তি ও যোগাযোগ দক্ষতায় এগিয়ে থাকায় উদ্যোক্তা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষি খাতের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, পরিশ্রম, সততা ও সুস্পষ্ট লক্ষ্যই সফলতার মূল চাবিকাঠি।প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজার বিশ্লেষণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্টার্টআপ পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাচর্চা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হবে।