হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি সময়। কোরআন ও হাদিসে একে ‘আরবাআতুন হুরুম’ অর্থাৎ চার সম্মানিত মাসের একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মাসে বিশেষভাবে সব ধরনের পাপ, অন্যায় ও জুলুম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মহররম মাস শুধু পবিত্রই নয়, বরং ইবাদতের দিক থেকেও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে এই মাসে রোজা রাখার ব্যাপারে ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।রোজার বিশেষ ফজিলতহাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—“রমজানের পর আল্লাহর মাস মহররমে রোজা রাখা সর্বশ্রেষ্ঠ।”(সহিহ মুসলিম, জামে তিরমিজি)এ মাসের মধ্যে আশুরার রোজা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। হাদিসে এসেছে, আশুরার রোজার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা অতীত বছরের সগীরা গুনাহ মাফ করে দেন বলে আশা করা হয়।আশুরার তাৎপর্যআশুরা উপলক্ষে রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা রাখার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইহুদিদের থেকে ভিন্নতা বজায় রাখতে আশুরার আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখা উত্তম।অন্য বর্ণনায় এসেছে, যদি পরবর্তী বছর পর্যন্ত তিনি বেঁচে থাকতেন, তবে তিনি ৯ তারিখেও রোজা রাখতেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।শিক্ষা ও বার্তামহররম মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ইবাদতের এক বিশেষ সুযোগ। এই মাসে বেশি বেশি নফল রোজা, দোয়া ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে আশুরার দিন মুসলমানদের জন্য তওবা, রোজা এবং অতীতের শিক্ষা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।সারকথা:মহররম শুধু হিজরি বছরের শুরু নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর রহমত লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। আশুরার রোজা এ মাসের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে মুসলমানদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে।