মাদকাসক্তিকে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তা মোকাবিলায় কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে তথাকথিত বিদেশি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।রোববার (২৮ জুন) রাতে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া রেলগেট এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আয়োজিত চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সেলিম উদ্দিন বলেন, ধূমপান থেকেই অনেকের মাদকাসক্তির সূচনা হয়। মাদক মানুষের আত্মসম্মানবোধ ধ্বংস করে এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি অভিযোগ করেন, সমাজে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতিবাচক ভূমিকার কারণেও তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার ও সমাজের অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তিনি দাবি করেন, দেশে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত, যা জাতীয় জীবনের জন্য গুরুতর হুমকি। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য রাষ্ট্রের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সহজ হবে।সরকারের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মাদক নির্মূলে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা উচিত। একই সঙ্গে প্রশাসনকে কোনোভাবেই মাদক কারবারিদের প্রতি ছাড় না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি পারিবারিক সচেতনতার সমন্বয়েই একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সমাজকে নানা ধরনের অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে।বিদেশি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধের প্রসঙ্গ তুলে সেলিম উদ্দিন বলেন, তরুণদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় পর্যাপ্ত খেলাধুলার মাঠ ও বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম, মসজিদ এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত ঢাকা উত্তর নগরী গড়ে তোলা সম্ভব।তেজগাঁও উত্তর থানা জামায়াতের আমির আহসাম উল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি রাসিবুল হক নাসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার এবং মহানগর যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ অন্যান্য নেতারা।