বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিত করা, অনিয়মিত পথে ইউরোপে অভিবাসনের প্রবণতা কমানো এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনর্বাসনে যৌথভাবে কাজ করবে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর মাইগ্রেশন পলিসি ডেভেলপমেন্ট (আইসিএমপিডি)। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় বাস্তবতাকে সমন্বয় করে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সমঝোতা অনুযায়ী, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং তাদের বৈধ উপায়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ এবং অভিবাসন খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান।এ ছাড়া শ্রম অভিবাসন সহজীকরণ, অভিবাসীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অভিবাসনের যে নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়েও গবেষণা ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইসিএমপিডির উপ-মহাপরিচালক সেদেফ ডেয়ারিং বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অভিবাসনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইসিএমপিডির অভিজ্ঞতা এবং ব্র্যাকের স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম একত্রিত হলে এ খাতে আরও কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।ব্র্যাকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অরিঞ্জয় ধর বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। আইসিএমপিডির আন্তর্জাতিক দক্ষতা এবং ব্র্যাকের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও মানবিক, নিরাপদ ও কার্যকর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী সংলাপ, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আনতে একযোগে কাজ করা হবে।