ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। গত পাঁচ বছরে প্রায় ১০০টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চোর শনাক্ত বা চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে নিয়ম অনুযায়ী চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে কৃষকদের গুনতে হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা।মহেশপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত পাঁচ বছরে প্রায় শতাধিক সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা বা অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।পল্লী বিদ্যুতের মহেশপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম অভিজিৎ সাহা জানান, ট্রান্সফরমার চুরির প্রতিটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চুরি হওয়া ট্রান্সফরমার উদ্ধার কিংবা চোর গ্রেপ্তারের খবর তাদের কাছে নেই। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের মূল্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহককেই পরিশোধ করতে হয়।ফতেপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের জানান, ২০২৪ সালে তার সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর দীর্ঘদিন পাম্পটি অচল ছিল। চলতি বছরের জুন মাসে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তাকে নোটিশ দিয়ে ট্রান্সফরমারের মূল্য বাবদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা আদায় করে।ডিজিএম আরও জানান, এ পর্যন্ত চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের মধ্যে মাত্র একজন গ্রাহক ছাড়া বাকি সবার কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায় করা হয়েছে।সর্বশেষ গত ২৯ জুন উপজেলার আজমপুর ইউনিয়নের ড্রাগন ফলচাষি সবুর খানের বাগানের সেচ পাম্প থেকে ২৫ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বরং ক্ষতির পুরো বোঝা বহন করতে হচ্ছে কৃষকদেরই। এতে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়ছেন। ভুক্তভোগীরা ট্রান্সফরমার চুরি রোধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আজমপুরের কুলবাগান এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অতীতের ঘটনাগুলোর কোনো ট্রান্সফরমার উদ্ধার বা চোর গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেন।